বাউফল প্রতিদিন ডট কম, সম্পাদকীয় :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসন এবার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে বিএনপির প্রার্থী, সাবেক এমপি ও বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা শহিদুল আলম তালুকদার; অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নেতা, ছাত্র শিবিরের দুই বারের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। মাসুদ গত ১৭ বছর ধরে বাউফল উন্নয়ন ফোরামের মাধ্যমে উপজেলাজুড়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা তাকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সুপরিচিত করেছে।
বাউফল আসনের ভোটার কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নতুন ভোটার ও তরুণ ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। মোট ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ তরুণ। তারা কেবল রাজনৈতিক পরিচয় বা পরিচিত মুখে ভোট দেন না; বরং কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ডিজিটাল সুবিধা, স্বচ্ছ রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকে ভোটের মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেন। তাই বয়স, দৃষ্টিভঙ্গি, নেতৃত্বের ধরন এবং যোগাযোগ কৌশল তরুণ ভোটে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিএনপির প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। সাবেক এমপি হিসেবে তার রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী। দলীয় ইতিহাস, আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক তার বড় শক্তি। পরিবারের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বিশেষভাবে দৃঢ়। অভিজ্ঞতার ভারসাম্য ও পরিচিত নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তাকে দেখা হয়।
তবে তরুণ ভোটারদের বড় অংশ শুধুমাত্র অতীতের অভিজ্ঞতা বা পরিচিত মুখে আস্থা রাখেন না। তারা জানতে চায়—কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে কীভাবে, শিক্ষা ও প্রযুক্তি ব্যবস্থায় কি উন্নয়ন আসছে, তরুণদের জন্য কোন সুযোগ-সুবিধা তৈরি হবে। শহিদুল আলম তালুকদারের প্রচারণা যদি অতীতের অবদান ও দলীয় পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে আধুনিক চিন্তাধারার তরুণদের পুরোপুরি আকৃষ্ট করা কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ কেবল স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়ের নেতা। দুই বারের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি হিসেবে তার নেতৃত্ব ও নেটওয়ার্ক জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃত। বাউফল উন্নয়ন ফোরামের মাধ্যমে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। এসব উদ্যোগ যুব ভোটারদের মধ্যে বাস্তবতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তরুণ ভোটে মাসুদকে এগিয়ে রাখছে তার সরাসরি সংযোগ কৌশল ও ডিজিটাল উপস্থিতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকা, যুবদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, শিক্ষাগত ও সামাজিক সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব—এসব তাকে পরিবর্তনমুখী ভোটারের কাছে দৃশ্যমান করছে। তরুণদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তারা তার বক্তব্যে নিজেদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত পাচ্ছে।
মহিলা ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজ এবং সামাজিক উদ্যোগের কারণে। স্কুল, কলেজ ও কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান তাকে সাধারণ ভোটারের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত করেছে।
তবে বাউফল এখনও গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক এলাকা। এখানে দলীয় পরিচয় ও সাংগঠনিক শক্তি বড় ফ্যাক্টর। বিএনপির দীর্ঘদিনের সংগঠন তরুণ ভোটারদের একটি অংশকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে যারা পরিবার ও এলাকার প্রভাবশালী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তারা এখনও শহিদুল আলম তালুকদারের পক্ষে ঝুঁকছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পরিবর্তনমুখী ও জাতীয় নেতৃত্ব প্রদর্শন করা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তরুণ ভোটারদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছেন। অভিজ্ঞতা ও পরিচিতির ভারসাম্য এখনও শহিদুল আলম তালুকদারের সমর্থকদের মধ্যে দৃঢ়।
শেষ পর্যন্ত, বাউফলের তরুণ ভোট কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে—কোন প্রার্থী শেষ মুহূর্তে তরুণ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়োজনকে সবচেয়ে বাস্তবমুখীভাবে তুলে ধরতে পারবেন। অভিজ্ঞতার ভারসাম্য, জাতীয় নেতৃত্বের বাস্তব অভিজ্ঞতা, নাকি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি—সবই এবার ভোটের ফলকে নির্ধারণ করবে।















Leave a Reply