বাউফল প্রতিদিন ডট কম

বাউফলের কথা বলে

নির্বাচনের ব্যস্ততায়ও মানুষের পাশে গরীবদের ডাক্তার জাকিয়া ফারহানা

বাউফলের বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রোগ্রামে যান তিনি। কখনো উঠোন বৈঠকে আবার কখনো গণসংযোগে যান। সেখানে ভিড় জমে। কেউ ভোটের কথা বলতে এসেছে, কেউবা অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার জন্য। সেই ভিড়ে দেখা মেলে এক নারীর—হাসি ঠোঁটের কোণে, কোমল কণ্ঠে কথা বলছেন। তিনি ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং বাউফল আসনে জামায়াতে ইসলামীর এমপি প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের স্ত্রী, ডা. জাকিয়া ফারহানা।

নির্বাচনের ব্যস্ততা তার দিনের অর্ধেক সময় নেয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউনিয়ন ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়, গণসংযোগ। কিন্তু তার মানবিক দৃষ্টি কখনো মানুষের কষ্ট এড়িয়ে যায় না। গ্রামের গরীব মানুষ তার কাছে আসে ছোট অসুখ বা চোখের সমস্যা নিয়ে, আর তিনি ধৈর্য সহকারে শোনেন, পরীক্ষা করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেন—এবং কোনও পারিশ্রমিক নেন না।

কালাইয়া ইউনিয়নের ৫৫ বছর বয়সী রহিমা বেগম বলেন, “চোখে খুব জ্বালা হইত। শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখানো আমাদের জন্য দামী। ম্যাডাম আইসে চোখ দেখল, ওষুধ লিখে দিল। আমি খুব খুশি হইছি।”

নাজিরপুরের আব্দুল করিম (৬২) যোগ করেন, “চোখের সমস্যা অনেক দিন ধরে। ম্যাডাম আমাকে বুঝিয়ে বলল, কোথায় দেখাবো আর কী করব। আমরা গরীব, কিন্তু তিনি আমাদের দেখল বিনা পারিশ্রমিকে।”

ধুলিয়া ইউনিয়নের আসমা খাতুন (৪৮) বলেন, “সারা দিন গণসংযোগে ব্যস্ত থাকার পরও রাতে বাড়িতে এসে অসংখ্য রোগীকে দেখেন। খুব ধৈর্য সহকারে সব সমস্যা শুনে সাহায্য করেন।”

গ্রামের মুরুব্বিরা বলেন, “ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে—ডা. জাকিয়া ফারহানা নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকলেও মানুষের পাশে দাঁড়ান।”

ডা. জাকিয়া ফারহানা মনে করেন, “চিকিৎসা আমার পেশা, আর মানুষের পাশে থাকা নৈতিক দায়িত্ব। রাজনীতি হোক বা না হোক, অসহায়দের সাহায্য করতে হবে।”

গ্রামের মানুষ বলছেন, নির্বাচনের মাঠে তার পা থাকলেও তার হৃদয়ে মানুষের যন্ত্রণা সব সময় প্রথম। বাউফলের গরীবরা আজ তার হাত ধরে পায় চিকিৎসা, আশ্বাস এবং মানবিকতার ছোঁয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *