আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাউফল আসন থেকে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী চায় নতুন ভোটাররা। বাউফলের ১৫ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার বিভিন্ন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
নতুন ভোটার দাশপাড়া গ্রামের সুমন বলেন, আমি জীবনের প্রথম ভোট দেব দেখে শুনে বুঝে। তবে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হলে কোনো কথাই নেই। চোখ বন্ধ করে তাকে ভোট দেব। তিনি আরও বলেন, “অতীতে অনেক এমপি দেখেছি, বড় বড় বুলি দিয়ে এলাকার উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। ব্যক্তিগত উন্নয়ন করেছেন। পরিবারের সদস্যদের অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি হয়েছে।”
বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সত্তার মৃধা বলেন, “আমি কোনো দল করি না। প্রার্থী হিসেবে যাকে পছন্দ হবে তাকেই ভোট দেব।” আপনার কোন ধরনের প্রার্থী পছন্দ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “যে পাবলিকের টাকা মাইরা খাইবে না, আমি তাকে ভোট দেব।” প্রার্থীর নাম বলা যায় কিনা জানতে চাইলে বলেন, “মনির ও মাসুদ এই দুইজনের মধ্যে একজনকে ভোট দেব।”
বাউফল পৌর শহরের বাসিন্দা খোকন সিকদার বলেন, “লোকচুরির কিছুই নেই, সাফ কথা—আমি ভোট দেব মনির ভাইকে। তিনি ভালো লোক, কোনো ঝামেলায় নেই, ভদ্র মানুষ।”
পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সেলিম বলেন, “আমি বিএনপি করি, ধানের শীষ মার্কায় যে পাবে তাকেই ভোট দেব। তবে দাদাভাই পাইলে (সহিদুল আলম তালুকদার) ভালো হয়। ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদারও ভালো লোক। কারোটা খান না, তিনি মানুষকে খাওয়ান।”
তবে অধিকাংশ ভোটার সাবেক এমপি সহিদুল আলম তালুকদার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফারুক আহমেদ তালুকদার, কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মু. মুনির হোসেন ও জামায়াতের ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন।
জামায়াতের মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও বিএনপি থেকে এ আসনে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিএনপির বিরোধ নিরসন করতে পারলে যে মনোনয়ন পাবে, তিনিই বিজয়ী হতে পারেন। আর বিরোধ থেকে গেলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সচেতন রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, বিএনপি বাউফলে তিন ভাগে বিভক্ত। এক হয়ে কাজ করতে পারলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আর বিরোধ থেকে গেলে জামায়াত যদি তা কাজে লাগাতে পারে, সাধারণ ভোটারসহ আওয়ামী লীগ ও হিন্দু ভোট নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে দাড়িপাল্লার জয় ঠেকানো মুশকিল হবে।
কেন দাড়িপাল্লা মার্কায় আওয়ামী লীগ ও হিন্দুরা ভোট দেবেন—এমন প্রশ্ন করা হলে নাম প্রকাশ না করে বাউফল সরকারি কলেজের এক শিক্ষক বলেন, “অধিকাংশ হিন্দুরা সাধারণত নৌকায় ভোট দেয়। যেহেতু এবছর নৌকা নেই, তারা ভোট দিলে মাসুদকেই দেবে। কারণ বিএনপির চেয়ে মাসুদকে তারা নিরাপদ মনে করেন। আওয়ামী লীগের ভোটাররাও ভোট দিলে মাসুদকেই দেবে।
তিনি আরো বলেন, এছাড়াও মাসুদের বড় শক্তি হচ্ছে নারী ভোটার। এই তিন মিলে মাসুদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি বিএনপি বিরোধ নিরসন করে এক হয়ে কাজ করতে পারে, তাহলে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত। কিন্তু বিরোধ যদি থেকেই যায়, তাহলে হেরে যেতে পারে বিএনপির প্রার্থী,”। আর যদি বিএনপির সঙ্গে এনসিপির জোট হয় তা হলে দাড়িপাল্লার প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদই হবেন পরবর্তী এমপি।











Leave a Reply