বাউফল প্রতিদিন ডট কম

বাউফলের কথা বলে

বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে শতাধিক অবৈধ বাঁধা জাল

বাউফল উপজেলা সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে বাঁধা জালের বিস্তার বেড়েছে। মাত্র ৫ কিলোমিটার নদী পথের তিনটি পয়েন্টে শতাধিক বাঁধা জালের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

এ সকল বাঁধা জালে মাছের রেনুপোণা ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবাধে ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ বাঁধা জাল।

এতে জাতীয় সম্পদ যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি বৈধ জেলে পরিবার নদীতে মাছ না পেয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, তেঁতুলিয়া নদীর বাতির খাল এলাকা থেকে চন্দ্রদ্বীপের খানকা ও নিমদির চর কচুয়া এই তিন পয়েন্টে পাতা হয়েছে শতাধিক বাঁধা জাল।

বাঁধা জালের কারণে মাছ নদীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছাতে জালে বাঁধা পায়। এ কারণে জেলেরা নিয়ম মেনে নদীতে নামলেও মাছের দেখা পায় না।

স্থানীয় জেলে মো. সেলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই তেঁতুলিয়া নদীকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন।

আমরা নিয়ম মেনে নদীতে মাছ ধরতে নামি, কিন্তু নদীতে তো আর মাছ নেই! সবই ওদের বাঁধা জালে আটকা পড়ে। আমাদের ঘরে চুলো জ্বলে না, অথচ ওরা লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছে।’

আরেকজন জেলে রাজ্জাক মাতুব্বর বলেন, ‘প্রশাসন সব জানে, কিন্তু কিছুই করে না।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাঁধা জাল শুধু মাছের প্রজনন ধ্বংস করছে না, নদীর পরিবেশ ও জীব বৈচিত্রের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নামিয়ে আনছে।

এখনো যদি এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তেঁতুলিয়া নদী মাছ শূন্য হয়ে পড়বে।

বিষয়টি নিয়ে বাউফল উপজেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘আমি দুই এক দিনের মধ্যেই অভিযান চালাবো।’

কালাইয়া বন্দর নৌ পুলিশ ফাড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. আল মামুন বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। বর্তমানে ফাড়ির দায়িত্বে যিনি আছেন তার সঙ্গে কথা বলুন।’

ফাড়ির দায়িত্বে থাকা এস আই (পুলিশ পরিদর্শক) আবু বক্কর সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয় না।

তবে তারপরেও আমরা সাধ্যমত অভিযান চালাই।’

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বাস্তবে অভিযানের নামে চলছে প্রহসন। মাঝে মাঝে প্রতীকী অভিযান চালিয়ে কয়েকটি জাল জব্দ করা হলেও সেগুলো আবার অল্প সময়ের মধ্যে বসানো হয়।

সিন্ডিকেটকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। ফলে টেকসই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *