বাউফল প্রতিদিন ডট কম

বাউফলের কথা বলে

বাউফলে সরকারি খালে বাঁধ: জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট, দুর্ভোগ

অন্তু হাওলাদার (রিপোর্টার): উপজেলার বগা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের কায়না ও কৌখালী গ্রামের সরকারি খালগুলোতে একের পর এক বাঁধ দেয়ায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল এখন কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খালে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কচুরিপানায় ভরে গেছে পুরো খাল, সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ ও ভয়ঙ্কর পোকামাকড়ের উপদ্রব।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পশ্চিম কায়না গ্রামে অন্তত ছয়টি বাঁধ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সেকান্দর হালদারের বাড়ির দরজায় তেঁতুল বাড়িয়া খালে,গনি মৃধার বাড়ির পূর্বপাশে, ইব্রাহিম চৌকিদারের বাড়ির পশ্চিম পাশে,ছয়জদ্দিন খার বাড়ির দরজায়,সত্তার মৃধার বাড়ির দরজায়,বারেক মৃধার বাড়ির পূর্বপাশে।

এছাড়া কৌখালী ভাড়ানি খালে বাঁধ দেয়া হয়েছে আবদুর রহমান মাষ্টারের বাড়ির দক্ষিণ ঘাটে,সুলতান শিকদারের বাড়ির দক্ষিণ পাশে করাত খালি খালে দুটি বাঁধ,মফেজ মেম্বারের বাড়ির সামনে,মোল্লা বাড়ির পূর্ব পাশে,ছিদ্দিক উল্লার বাড়ির পশ্চিম পাশে পরপর তিনটি বাঁধ।

স্থানীয়রা জানান, এসব বাঁধ শুধু পানির স্বাভাবিক প্রবাহই বন্ধ করেনি , খালের পানির নিচ থেকে দুই ফুট ওপরে নেট জাল টানিয়ে মাছের ঘেরও তৈরি করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা জমিতে সেচের পানি পাচ্ছেন না, আবার বর্ষায় পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।

কৌখালী গ্রামের কৃষক মোশারফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “খালে পানি না চলতে পারায় ধানের জমি ডুবে গেছে, আবার মাছ চাষের নামে সরকারি খাল কেউ কেউ নিজের দখলে নিয়েছে। এখন আমরা চাষাবাদে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

অন্যদিকে খালে জমে থাকা কচুরিপানার কারণে পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশার বংশবৃদ্ধি বেড়ে গেছে। এতে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *