মো. জসিম উদ্দিন অন্তু (রিপোর্টার): পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারটি অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের চুরির ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল ২৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দুপুর দেড়টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাদের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রসহ আটক করা হয়।
জানা যায়, হাসপাতালের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রগুলো ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করার সময় হাতেনাতে আটক করা হয়।
অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র চুরি করে বিক্রিতে নেতৃত্ব দেন বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হারবাল সহকারী মোঃ শফিকুল ইসলাম সবুজ-এর পুত্র মোহাম্মদ শিয়াম। এ সময় তার সাথে সহযোগী ছিলেন মো. রাব্বি।
চোরাই মালক্রেতা মোহাম্মদ খোকন বলেন, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র গুলো নিয়ে আমার কাছে তিনজন এসেছিল। তারা আমাকে বলল আপনি কি লোহা কিনবেন। তখন আমি বললাম আমি যেহেতু বাঙালি ব্যবসা করি সেহেতু লোহা কিনব। আমি আপনাদের ৩৭ টাকা দরে কেজি দেব। পরে তারা যখন বস থাক আমার সামনে খুলে নিয়ে আসলো। তখন আমি দেখে বললাম এগুলোতো হসপিটালে থাকে। পরে আমি অনেক দরাদরি করে ৭০০ টাকায় চারটি অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র কিনলাম। আটক ফজলে রাব্বিকে দেখিয়ে তিনি বললেন কেনার সময় সেও ছিল।
আটক ফজলে রাব্বির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, আমি টাইলসের কাজ করি। আমি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে গুচ্ছগ্রাম আদর্শ পাড়া ধরা পড়েছি। পরে আমাদেরকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সর সামনে নিয়ে আসে। আমাকে হাসপাতালের কর্মচারী সবুজের ছেলে শিয়াম নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ মনির বলেন, আমি হসপিটালের পশ্চিম দিকে দাঁড়িয়ে ছিলাম যখন আমি ওদের বস্তা দেখলাম তখনই আমার সন্দেহ দানা বেঁধেছে। পরে বস্তা থেকে বের করে দেখি সরকারি সিলিন্ডার। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা সদউত্তর দিতে পারেনি। তারা বলল আমরা এসব পেয়েছি রাব্বির কাছ থেকে। আমি রাব্বিকে প্রশ্ন করলাম এসব কোথায় পেয়েছো? রাব্বি আমাকে বলল হাসপাতালের কর্মচারী সবুজ ভাইয়ের ছেলে সিয়াম বিক্রি করেছে। এই মাল হচ্ছে হাসপাতালের আমি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পরে আমি হাসপাতালের হেড ক্লার্ক ফোন করেছি। পরে হেড ক্লার্ক আমার কাছ থেকে সিলিন্ডারগুলো হসপিটালে নিজের জিম্মায় নিয়ে যান।
এ বিষয়ে হাসপাতালের হেডক্লার্ক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমি চুরি যাওয়া মালামালগুলো নিয়ে এসে নিজের জিম্মায় রেখেছি। কেননা ইহা রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এটা চুরি করার কোন সুযোগ নাই।
নিজের পুত্রের চুরির ঘটনা স্বীকার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হারবাল সহকারি মোঃ শফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, আমি আমার ছেলের মাকে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করেছি যে তার সাথে এই চুরির ঘটনায় কে কে জড়িত ছিল। এবং সে অন্যায় করলে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুর রউফ বলেন, আমি জেলা শহরে সিভিল সার্জন-এর কার্যালয় মিটিংয়ে আছি। সরকারি সম্পত্তিসহ যে দুজনকে আটক করা হয়েছে তাদেরকে পুলিশে দেওয়া হচ্ছে। এবং এর সাথে আরো কারা জড়িত আছে তাদের খুঁজে বের করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, এমন ঘটনা সম্পর্কে আমি অবহিত নয়। এখন যেহেতু আপনার মাধ্যমে অবগত হতে পেরেছি। সেহেতু এ বিষয়ে আমি শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেব











Leave a Reply