বাউফল প্রতিদিন ডট কম

বাউফলের কথা বলে

বাউফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি: গরমে শিশুদের ভোগান্তি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

মশিউর রহমান: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সদর ইউনিয়ন ০৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ১০০নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল রাতে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

শ্রেণিকক্ষ থেকে ৫টি সিলিং ফ্যান এবং ৩টি বৈদ্যুতিক বাতি চুরি হয়ে গেছে। বর্ষা শেষ না হতেই তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করায় গরমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত চোরদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষক ও কর্মচারীরা শ্রেণিকক্ষের ফ্যান ও বাতি না দেখে হতবাক হয়ে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে চোরেরা কৌশলে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে মূল্যবান সামগ্রীগুলো নিয়ে গেছে। চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে বর্ষাকাল চললেও, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী দ্রুতই গরমের তীব্রতা বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষে ফ্যান না থাকায় কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি তারা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ফ্যান ও বাতির ব্যবস্থা করা জরুরি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন (৩৫) এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ বিদ্যালয়ে ১০বছর সময় দিয়েছি এর মধ্যে এ ঘটনা প্রথম।

“শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা ফ্যান ও বাতিগুলো স্থাপন করেছিলাম। এখন এই চুরির কারণে আমাদের কোমলমতি শিশুরা গরমে কষ্ট পাবে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত এবং চোরদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

সাবেক স্কুল সভাপতি আঃ রহমান হাওলাদার (৫০) বলেন, “এই বিদ্যালয়টি আমাদের এলাকার গর্ব। এমন একটি জঘন্য ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই পুলিশ দ্রুত চোরদের খুঁজে বের করুক এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”

বিদ্যালয়ের জমিদাতা সদস্য জনাব আঃ মোতালেব গাজী (৭০) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তিল তিল করে এই বিদ্যালয়টি গড়ে তুলেছি। যারা শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চুরি করতে পারে, তারা সমাজের শত্রু। আমরা আশা করি প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

এলাকাবাসীর পক্ষে অনেকে মন্তব্য করেছেন, “চুরি হওয়া ফ্যান ও বাতির কারণে আমাদের ছেলেমেয়েরা গরমে কষ্ট পাবে। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই দ্রুত নতুন ফ্যান ও বাতির ব্যবস্থা করা হোক এবং চোরদের ধরা হোক।”

এলাকাবাসী এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের কাছে এই চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত চোরদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। একই সাথে, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়াও, স্থানীয় বিত্তবান ব্যক্তি এবং সমাজসেবীদের প্রতি বিদ্যালয়ের এই সংকটে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের আর্থিক সহায়তায় দ্রুত ফ্যান ও বাতি স্থাপন করে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব। একটি উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *