বাউফলে ভোটকেন্দ্র কমিটির দায়িত্বশীলদের প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা
জামায়াত একমাত্র দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে পারে, অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয় -ড.মাসুদ
বাউফল (পটুয়াখালী)সংবাদদাতা :
বাংলাদেশ জামাত ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. মু. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন- শহীদ মাওলানা নিজামী, আলী আহসান মো: মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, মীর কাসেম আলীর মতো লোক তৈরি করা ছাড়া দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব নয়। জামায়াতে ইসলামী শুধু কথা বলে না কাজে পরিণত করেও দেখিয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৩টি মন্ত্রণালয়ে দুইজন মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের দুই টাকার দুর্নীতি ও প্রমাণ করতে পারেনি। এতেই প্রমাণিত হয় একমাত্র বাংলাদেশ জামাত ইসলামী শুধু দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে পারে। অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা দেশ গঠন করবো সৎ যোগ্য ও দক্ষ মানুষ তৈরি করে।
গতকাল রবিবার বিকেল ৫টায় বাউফলে ধান্দি কামিল মাদ্রাসা মিলনায়তনে নাজিরপুর ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্র কমিটির দায়িত্বশীলদের প্রশিক্ষণ ও মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোঃ রাসেল মাহমুদ এর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা নায়েবে আমির এবিএম সাইফুল্লাহ, বাউফল উপজেলা আমির মাওলানা মোঃ ইসহাক মিয়া, নায়েবে আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, নির্বাচন পরিচালক মাওলানা আবদু দাইয়ান সেক্রেটারি মোঃ খালিদুর রহমান এডভোকেট মুনতাসির মুজাহিদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুরুল ইসলাম নজরুল প্রমুখ।
ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ আরো বলেন -আমরা যা কথা বলি তার চেয়ে বেশি কাজে বিশ্বাসী। কেউ বাজার দখল করবে, টেম্পু স্টান্ড দখল করবে,লঞ্চঘাট দখল করবে, চাঁদাবাজি দখল করবে। আমরা মানুষের মন দখল করে বাউফলের বিজয় নির্ধারণ করবো। কেউ যদি অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় সে যেন শেখ হাসিনার ছবি তার মোবাইলে রাখেন।
জামায়াতে ইসলামী তার সততা দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে এমন জায়গায় পৌঁছাব। আমরা কাজ দিয়ে প্রমাণ করবো আমরা হারতে জানিনা আমরা বিজয়ের জন্য এসেছি।
ডক্টর মাসুদ আরো বলেন- জামায়াত সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় নারীদেরকে আবদ্ধ করে রাখা হবে। করোনা কালীন সময়ে যখন তাদের স্বামীদের, তাদের বাবাদের, তাদের ভাইদের চাকরি ছিল না বেকার তখন সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়ে আমরা প্রমান করেছি পর্দা রক্ষা করে আমাদের বোনেরা, আমাদের মায়েরা যে কোন আয় রোজগার করতে পারবে।
আমরা বাউফলে ২০০৭ সালে সাতশত শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়েছিলাম। তাদের অন্তত ৫০ জনের অধিক ভালো রেজাল্ট করে উত্তীর্ণ হয় বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে জড়িত হয়ে দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখছে। তাদের মধ্যে অনেকে ডিসি,এডিসি, এসপি এবং অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা রয়েছে যারা এখনো ফোন করে আমাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ বছর ১০ জন আমরা শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট দিয়েছি। এদের মধ্যে শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্ব পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে। আমাদের বোনেরা যে কষ্ট করেছে, সৎ,যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক তৈরি করে এর প্রতিদান দিব।
তিনি আরো বলেন বাউফলের প্রবেশদ্বার বগা ব্রিজ ২০ থেকে ৪০ বছরের পুরনো বাউলের জনগণের দাবি। আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে আমরা ২০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করেছি। ইতিমধ্যে নবম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর টেকনিক্যাল কাজ শুরু হয়েছে।
বাউফলের নিমদি, তাঁতেরকাঠি, ধুলিয়া, কারখানা এলাকায় বহু প্রতিষ্ঠান, বহু মসজিদ, বহু ঘর বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। এ ভাঙ্গন প্রতিরোধে আমরা পরিবেশ বন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সাথে কথা বলেছি। আমাদের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ইতিমধ্যে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
ড. মাসুদ আরো বলেন আমি ঢাকায় রাজনীতি করি কিন্তু বাউফলে একটি মাত্র রাজনীতি তা হল বাউফল। আমরা মাদককে না বলব, সন্ত্রাসকে না বলব,দুর্নীতিকে না বলব। এখানে কোন শাসক এমপি হবে না। আমরা হবো জনগণের খাদেম । এখানে এমপি হবে সাড়ে চার লক্ষ মানুষ।











Leave a Reply